২৫ অক্টোবর ২০২১,   ঢাকা, বাংলাদেশ  
Login          

ইসির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না




সংসদে উত্থাপিত ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ বিল-২০২১’ পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত আকারে বিলটি সংসদে পাশের সুপারিশ করা হয়েছে।


আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গত ৩ জুলাই সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। উত্থাপিত বিলটিতে একটি নতুন উপধারার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে আইনটি ‘অবিলম্বে কার্যকর হবে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিলের ৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ইসির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দেশের কোনো আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন তোলা যাবে না। এছাড়া বিলে ৮ নম্বর ধারার একটি উপধারায় বলা হয়েছে, ‘দৈবদুর্বিপাকে বা অন্য কোনো কারণে আঞ্চলিক সীমানা নির্ধারণ করা না গেলে বিদ্যমান সীমানার আলোকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে’।


আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে বিলটির ওপর চূড়ান্তকৃত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে সংসদীয় কমিটি। আইনটি কার্যকর হলে ১৯৭৬ সালের ‘দ্য ডিলিমিটেশন অব কনস্টিটিউয়েন্সিস অর্ডিনেন্স’ রহিত হবে। প্রস্তাবিত আইনে নির্বাচন কমিশনকে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যমান আইনে নেই।


বিলটি উত্থাপনের সময় আইনমন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছেন, সংসদের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল-সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং বাংলায় আইন করতেই মূলত বিলটি আনা হয়।


প্রসঙ্গত, সংবিধানের ১১৯(গ) অনুচ্ছেদে ইসিকে সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। আবার ১২৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ আইনের দ্বারা নির্বাচনি এলাকার সীমা নির্ধারণ’ করবে ইসি। এ পরিপ্রেক্ষিতে ‘সংসদ নির্বাচন এলাকা সীমানা নির্ধারণ বিধান অধ্যাদেশ-১৯৭৬’ জারি করা হয়েছিল। এরপর থেকে ঐ অধ্যাদেশের বলে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস হয়ে আসছে। নতুন আইন হলে এর বিধানে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গতকালের বৈঠকে ‘গান্ধী আশ্রম (ট্রাস্টি বোর্ড) বিল-২০২১’-এর প্রতিবেদনও চূড়ান্ত করা হয়। কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, শামসুল হক টুকু, আব্দুল মজিদ খান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, সেলিম আলতাফ জর্জ ও খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন অংশ নেন।