২৫ মে ২০২০,   ঢাকা, বাংলাদেশ  
Login          

ভোট সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ হবে: আওয়ামী লীগ




ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদী আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটি মনে করছে, দুই সিটির ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি বেছে নেবেন। একই সঙ্গে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে মানুষ দুই সিটির মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীদের বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন বলেও মনে করছেন দলটির নেতারা।


ভোটগ্রহণের এক দিন আগে শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশে নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। সব বক্তব্যেই নেতারা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে আশাবাদের কথা জানিয়েছেন।


দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে জনগণ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। বিএনপি যতই চেষ্টা করুক, যতই ষড়যন্ত্র করুক, সারাদেশ থেকে তাদের যতই সন্ত্রাসী ও পেটোয়া বাহিনী আসুক না কেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছে।


'আওয়ামী লীগ সিটি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল করবে'- বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কথার উদ্দেশ্যই হচ্ছে বিএনপি আসলে চায় নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। এরই মধ্যে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এটা প্রমাণ হয়েছে। গোপীবাগে কাউন্সিলর অফিসে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটা বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে। ওই হামলায় যে গুলি করেছে, সে ইশরাকের ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুল ইসলাম। অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় বিএনপি তাদের সন্ত্রাসী মনোভাব থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। তবে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা কোনো কাজে আসবে না।



ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের উৎসাহী তৎপরতাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে দৌড়ঝাঁপের সমতুল্য মন্তব্য করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন হলো স্থানীয় নির্বাচন। এ নির্বাচন নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকরা যে তৎপরতা শুরু করেছেন, তা অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। বিদেশি কূটনীতিকদের এই ধরনের দৌড়ঝাঁপ গোটা জাতিকে হতাশ ও ব্যথিত করেছে।


হানিফ বলেন, 'উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিদেশি কূটনীতিকদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। তারা উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করবেন। তবে আমরা আশা করি, সীমার মধ্যে থেকে তারা তাদের কথাবার্তা, চিন্তা-চেতনা তুলে ধরবেন।'


এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।