০২ আগস্ট ২০২১,   ঢাকা, বাংলাদেশ  
Login          

তিন জায়গায় নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনায় পুলিশি প্রতিবেদন চেয়েছে ইসি



একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত তিনটি সহিংসতার ঘটনায় পুলিশকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পুলিশ প্রধানকে (আইজিপি) লেখা চিঠিতে আগামী তিন দিনের মধ্যে এই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর)  নির্বাচনি প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে সংঘটিত তিনটি ঘটনার মধ্যে ফরিদপুর ও নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের দুজন কর্মী মারা গেছেন। আর ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই তিন ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে কমিশন। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইসি। এই বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও ভোটের নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রচারণা চলবে ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে কোনও ধরণের প্রচারণা করা যাবে না।  

নির্বাচনি সহিংসতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই ঘটনাগুলির প্রতিবেদন দিতে পুলিশ প্রধানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে ওইসব ঘটনার সময়ে পরিস্থিতি কী ছিল, ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।’

ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, তিনটি সহিংসতার ঘটনায় পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারা জানান, নির্বাচনি এলাকাগুলোতে ১২২টি নির্বাচনি তদন্ত কমিটি রয়েছে। আরও ঘটনার অভিযোগ পেলে এসব কমিটি তা খতিয়ে দেখে ইসিকে রিপোর্ট দেবে। ওই রিপোর্টের আলোকে ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসি সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা আরও জানান, বৃহস্পতিবারের (১৩ ডিসেম্বর) সভায় নির্বাচনপূর্ব সময়ে সহিংসতার বিষয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাবে। সভার কার্যপত্রেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংস্থাগুলোর ভূমিকার প্রসঙ্গ উল্লেখ রয়েছে। এতে উল্লেখ করা হচ্ছে- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম শর্ত হলো নির্বাচনপূর্ব পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা এবং প্রাক-নির্বাচনি বিভিন্ন অপরাধ যাতে না ঘটে এজন্য এখন থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এছাড়া এ সময়ে মাস্তান, চিহ্নিত অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ওই কার্যপত্রে নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্রের প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও জানা গেছে, ২৪ ডিসেম্বর সেনাবাহিনী এবং ২৬ ডিসেম্বর বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মাঠে থাকার কথা বলা হয়েছে কার্যপত্রে। সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং অন্যরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা ভোটের পর ১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন।

এদিকে কয়েকটি জেলায় সহিংস ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে ইসি। এরই অংশ হিসেবে বুধবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রতিদিনের আচরণবিধি প্রতিপালনের তথ্য জানাতে চিঠি দিয়েছে কমিশন। ওই চিঠিতে নির্বাচনে আচরণ বিধিমালা যথাযথ পরিপালন এবং আইনানুগ সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনি এলাকার আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতির সম্পর্কে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা ও নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।