২৮ মে ২০২০,   ঢাকা, বাংলাদেশ  
Login          

অপেক্ষা এখন ডাকসু নির্বাচনের



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হলভিত্তিক খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত তালিকায় ১৮টি হলের মোট ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন শিক্ষার্থীর তথ্য রয়েছে। এদিকে, প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করারও দাবি করেছে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন।

গতকাল দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে খসড়া ভোটার তালিকার উদ্বোধন করেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশিত তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হলের সঙ্গে সংযুক্ত ও আবাসিক মিলিয়ে মোট ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন শিক্ষার্থীর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৫০৯ জন নারী শিক্ষার্থী ও ২৩ হাজার ৯৮৪ জন পুরুষ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (ducsu.du.ac.bd) এ তালিকা দেখা যাবে।

আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ ডাটাবেজকে ‘ডাকসু নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও উদ্বোধনকালে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, এটিকে ডাকসু নির্বাচনের ভোটার তালিকা বলা কঠিন, বলা যায় হলভিত্তিক শিক্ষার্থী তালিকা। ডাকসু নির্বাচন-প্রক্রিয়া শুরু হলে ডাকসুর সংবিধানের আলোকে এখান থেকে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা হলভিত্তিক একটি ডাটাবেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এগুলো সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট হল অফিসে তালিকার হার্ড কপি সংরক্ষিত থাকবে। সংশোধন, পরিমার্জন, বিয়োজনের জন্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হল প্রাধ্যক্ষের অফিসে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এর আগে ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ডাকসু নির্বাচনের প্রক্রিয়া যে গতিতে চলছে, এতে মার্চে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ধাপে ধাপে কাজ চলছে।

ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া :

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান বলেন, ‘ভোটার তালিকা প্রণয়ন নির্বাচনের প্রাথমিক কাজ। নির্বাচন করার পূর্বশর্তই হচ্ছে ক্যাম্পাসে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। আমরা প্রথম থেকেই নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে সহাবস্থানের দাবি জানিয়ে আসছি। যদি ক্যাম্পাস ও হলে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত না হয় তাহলে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করা অসম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার আগে সব ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনায় বসতে হবে যাতে একটি নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করা যায়। প্রতি হলে মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন, সব শিক্ষার্থীকে নির্ভয়ে থাকার মতো পরিবেশ তৈরি, মধুর ক্যান্টিনে সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।’ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ‘এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমরা অবিলম্বে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।’ ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছি। এটি দেশের রাজনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাবি খুঁজে পাবে সঠিক নেতৃত্ব, প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী পাবেন তাদের ন্যায্য অধিকার।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সময় নিয়ে হলেও যেন নির্বাচনের উদ্যোগ বিফলে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।’ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের একাংশের সভাপতি ইমরান হাবীব রুমন বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের মারপ্যাঁচে আগের মতো এবারও উদ্যোগটা যেন ঝিমিয়ে না পড়ে। দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।’