২৮ মে ২০২০,   ঢাকা, বাংলাদেশ  
Login          

সংলাপ আজ থেকে শুরু!



একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সংকটের কালো ছায়া মুছে দিয়ে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ কি খুলে যাবে? আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সব মতবিরোধ মিটে গিয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কি অব্যাহত থাকবে- এমন সব প্রশ্ন সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে বহুল প্রত্যাশিত আশা জাগানিয়া সংলাপ শুরু হচ্ছে। 

প্রথম দিনের সংলাপে অংশ নিচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রী গণভবনে তাদের নৈশভোজেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে গত রাতে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সংলাপে অংশ নিলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে তারা নৈশভোজে অংশ নেবেন না।

আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতাদের নিয়ে বিকল্পধারার নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসবেন। ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গেও সংলাপ করবেন। সংলাপের আগ্রহ দেখিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠানোর পর ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংলাপের সময় চূড়ান্ত হয়। এ ছাড়া বামপন্থি আটটি দলের জোট 'বাম গণতান্ত্রিক জোট'কে সংলাপে বসার আমন্ত্রণ ও নামের তালিকা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে গতকাল রাতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফোন করা হয়েছে।

আজকের সংলাপে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঐক্যফ্রন্টের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেবেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। আগামীকাল দ্বিতীয় দিনের সংলাপে বিকল্পধারার পক্ষে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও দলের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। 

এদিকে, সুশীল সমাজসহ সব মহল থেকেই সংলাপের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে এই সংলাপ আগামী সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু করতে বাস্তবসম্মত এবং যথোচিত ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা করা হয়েছে। সংলাপের প্রস্তুতি নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা সংলাপ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখালেও সবাই সফলতা কামনা করেছেন। তবে সংশয়েও রয়েছেন কেউ কেউ।

আগামী নির্বাচন নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও সন্দেহ-সংশয়ের মধ্যেই সরকার ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসার আগ্রহ দেখিয়ে গত রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠান ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। পরদিন সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসার সম্মতির কথা জানালে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। একই দিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ সংলাপে বসবে বলে জানিয়ে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক। পরে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার ড. কামাল হোসেনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের চিঠিতে 'সংবিধানসম্মত সব বিষয়ে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত' বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা হলে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। সংলাপের এমন তোড়জোড়ের মধ্যে মঙ্গলবার উচ্চ আদালতে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ায় হতাশ ও বিস্মিত হয়েছেন শীর্ষ নেতারা। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রাজধানীতে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সংলাপ ফলপ্রসূ হবে না। তবে অন্য এক অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দলের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকেই গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সংলাপে অংশ নিচ্ছেন যারা :

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ১৪ দলের পক্ষে আজকের সংলাপে অংশ নেবেন ২৩ নেতা। তারা হচ্ছেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও কাজী জাফর উল্লাহ, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ূয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন ও অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম।

ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। প্রতিনিধি দলে থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, সহসভাপতি তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি এস এম আকরাম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন। 

সংলাপের এজেন্ডা :

সংলাপে আলোচনার জন্য আওয়ামী লীগ ও তার জোটের সুনির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা নেই। জোটের নেতারা বলছেন, ঐক্যফ্রন্ট ও বিকল্পধারার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রী তাদের সংলাপে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কোনো পূর্বশর্ত দিয়ে এই সংলাপ হবে না। আলোচনা হবে খোলা মনে। সংলাপের ফল যা কিছুই হোক না কেন, আগামী নির্বাচন প্রশ্নে সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট তাদের চিঠির সঙ্গে সাত দফা দাবি এবং ১১টি লক্ষ্যের কপি সংযুক্ত করে দিয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা হবে। সাত দফার মধ্যে কয়েকটি দফা আছে যা সংবিধান সম্পর্কিত। কয়েকটি আছে আইন-আদালত ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। খালেদা জিয়ার সাজার রায় সংলাপের পথে বাধা হবে বলেও মনে করেন না ওবায়দুল কাদের। 

ঐক্যফ্রন্ট নেতারা মনে করেন, আওয়ামী লীগ আন্তরিক হলে সংবিধানের মধ্যে থেকেই সাত দফার দু'একটি ছাড়া প্রায় সব দাবিই মানা সম্ভব। এক্ষেত্রে দুটি বিকল্প আছে। সংবিধানের ১২৩-এর ৩(ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদ রেখে নির্বাচন করা যাবে। ১২৩-এর ৩(খ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদ ভেঙে নির্বাচন করা যাবে। সরকার বলছে, সংসদ রেখে নির্বাচন করবে। ঐক্যফ্রন্ট বিকল্পটা চাচ্ছে। 

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন মঙ্গলবার বিবিসিকে বলেছেন, সরকার আন্তরিক হলে এক মিনিটে সমস্যার সমাধান সম্ভব। লক্ষ্য তো একটাই, সবার অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন।


নেতারা যা বললেন :

সংলাপ ও এর ফলাফল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতারা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট ও বিকল্পধারার পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সংলাপে বসতে প্রধানমন্ত্রী রাজি আছেন। তিনি এ বিষয়ে আন্তরিক। আওয়ামী লীগ কোনো চাপে এই সংলাপে বসছে না। শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, তার দরজা কারও জন্য বন্ধ নয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার একদিকে সংলাপের প্রস্তাব করছে, অন্যদিকে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়েছে। এই দুটিই সাংঘর্ষিক এবং তা কখনই গণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিফলন ঘটায় না। এর মাধ্যমে সংলাপ নিয়ে সরকারের আন্তরিকতা প্রমাণ করে না।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সংলাপ নিয়ে আশার আলো দেখার মতো কিছু আছে কি-না তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংলাপের পরিবেশটা এখনও ভালো মনে হচ্ছে না। যেভাবে গ্রেফতার, গায়েবি মামলা আর সাজার মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে তাতে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ আছে।


সংলাপে গেলেও নৈশভোজে অংশগ্রহণ নয় :

প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গণভবনে আজকের সংলাপে যোগ দিলেও নৈশভোজে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সূত্র জানায়, বিএনপি নেতারা দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সংলাপে গিয়ে নৈশভোজে অংশ নিতে অনীহা জানান। বিষয়টি ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতারা অবহিত হলে বিএনপির এই মনোভাবকে সমর্থন দিয়ে তারাও নৈশভোজে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে দেন। 

এ প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না জানিয়েছেন, দেশের একটি সংকটকালে আলোচনার জন্য গণভবনে যাচ্ছেন তারা। রাতের খাবার গ্রহণের জন্য নয়। আওয়ামী লীগকে তারা জানিয়েও দিয়েছেন যেন রাতের খাবারের আয়োজন না করে।

তবে ঐক্যফ্রন্টের এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গেই ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সংলাপে ডেকেছেন। সেখানে নৈশভোজে অংশ না নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তারা নিয়েই থাকেন, তাহলে সেটি দুঃখজনক হবে। 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, গোটা দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সুগম হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেবল ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরই নয়, অন্য দলগুলোকেও সংলাপের জন্য ডেকেছেন। এই সংলাপ অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে- সেটাই সবার প্রত্যাশা।


অতীতের যত সংলাপ :

সংকটময় রাজনীতির অবসানে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে নিকট-অতীতে অনেকবারই সংলাপ হয়েছে। দেশি-বিদেশি মধ্যস্থতায় অথবা নিজেদের উদ্যোগে আয়োজিত সব সংলাপই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। 

১৯৯৪ সালে বিতর্কিত মাগুরা উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়। সে সময় কমনওয়েলথ মহাসচিবের বিশেষ দূত স্যার নিনিয়ান স্টেফান বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে এসেছিলেন। তবে তা সফল হয়নি। ২০০৬ সালের অক্টোবরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সংস্কার প্রশ্নে আওয়ামী লীগের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল সংসদ ভবনে সংলাপে বসেন। সেটিও ব্যর্থ হয়। 

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করলে সে ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপি আন্দোলনে নামে। এমন প্রেক্ষাপটে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসেন জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো। তিনি তার সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু উভয়পক্ষ তাদের দাবিতে অনড় থাকায় কোনো সমাধান ছাড়াই ফিরে যান তারানকো। পরে বিএনপি ও তার মিত্রদের বর্জনের মুখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।