২২ অক্টোবর ২০২০,   ঢাকা, বাংলাদেশ  
Login          

খাদের কিনারায় মার্কিন গণতন্ত্র



:: জোসেফ ই. স্টিগলিজ ::

সংবিধানের শুরু থেকেই গণতন্ত্রকে শাসনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সে গণতন্ত্র রক্ষা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে দেশটির নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সমালোচকরা।

সম্প্রতি দেশটির বিচারক অ্যান্থনি কেনেডির পদত্যাগের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে আরও বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়াতে ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক নিয়োগে এখন আর কোনো বাধা নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্টের একরোখা নীতি যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারকের যে গুরুত্ব ছিল, ট্রাম্পের প্রভাবে তা সবই এখন পড়ছে হুমকির মুখে। এতে প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়, মার্কিন গণতন্ত্র পড়ছে বিপদে। একের পর এক প্রায় সব জায়গাতেই প্রভাব বিস্তার করে চলছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে গণতন্ত্রের পাশাপাশি দেশটি অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও হারাতে বসেছে।

কিছুদিন আগে ট্রাম্পের বর্ণবাদ নীতি নিয়েও ওঠে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড়। হোয়াইট হাউজে এক বৈঠকে অভিবাসন নীতি নিয়ে আলোচনা করা হলে হাইতি, এল সালভাদর ও অন্যান্য দেশের জনগণ নিয়ে জঘন্য মন্তব্য করেন। এদিকে আফ্রিকার জনগণ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করলে ট্রাম্পের শাসন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করে আফ্রিকান ইউনিয়ন।

ট্রাম্পের শাসনামলে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়ছে নারীর অধিকার। আর, তাইতো প্রেসিডেন্টের বর্ষপূর্তিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার প্রতিবাদে নারীরা বিক্ষোভ আর প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ঐ দিন রাস্তায় নামে প্রায় পাঁচ লাখ অধিকার বঞ্চিত নারী, সঙ্গে ছিল নারী অধিকার সমর্থিত পুরুষও। লিঙ্গ বৈষম্য সুষ্ঠু গণতন্ত্রের পথে একটি বড় বাঁধা আর যুক্তরাষ্ট্রের মতো এতো উন্নত রাষ্ট্রে এ ধরনের বৈষম্যের ফলে দেশটির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকরা।

ট্রাম্পের একচেটিয়া শাসনব্যবস্থার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশটির প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক দিন দিন খারাপই হচ্ছে। চড়া শুল্কারোপ, হুমকি দিয়ে দেশগুলোকে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশটির জনগণ।

সর্বোপরি বলা যায়, গত দুই বছরে ট্রাম্পের শাসন আমলে বেড়েছে বর্ণবাদ, নারী বিরোধ, আইনি প্রভাব, পক্ষপাত প্রভৃতি যা দেশটির গণতান্ত্রিক ধারাকে ক্ষুন্ন করছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে দেশটি গণতন্ত্র হারাতে খুব বেশি দিন লাগবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


(সংক্ষেপিত)


সূত্র: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট

লেখক:  বিশিষ্ট মার্কিন অর্থনীতিবিদ ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।