৩১ অক্টোবর ২০২০,   ঢাকা, বাংলাদেশ  
Login          

চমক থাকবে দুই দলের প্রার্থী তালিকায়!



শুধু চমক বললেই ভুল হবে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রার্থী তালিকায় অকল্পনীয় ধাঁধাঁ থাকবে। দু'দলের প্রার্থী নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যাক্তির সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে সাধারন অনেক হিসেবই মিলবে না প্রার্থীর নামের তালিকা দেখে। 

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয় দলই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় সুনিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল গ্রহন করেছে। বিষয়টি আচ করতে পারলেও উভয় দলের ডাকসাইটে নেতারাও পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের পুরো ব্যাপারটি দেখছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তত্বাবধায়নে চলছে বিএনপির কার্যক্রম। 

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি অত্যন্ত সজাগ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ধরে রাখতে আর বিএনপি ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া। সেজন্য দুদলই গ্রহন করেছে ভিন্ন ভিন্ন একাধিক কর্মকৌশল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে উভয় দলই অত্যন্ত গোপনে তাদের কর্মকৌশল নির্ধারন এবং বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছে। রাজনৈতিক দর্শণে মতপার্থক্য প্রবল হলেও কর্মপরিকল্পনা গ্রহন এবং বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারনে উভয় দলের মধ্যে মিল খুজে পাওয়া গেছে।

উভয় দলই বিজয় নিশ্চিত করতে আসনভিত্তিক সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

বিএনপি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গোপন টীম আগামী নির্বাচন কেন্দ্রীক দলের সিদ্ধান্ত গ্রহন এবং প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করছে। তারেক রহমানের অত্যন্ত অনুগত এবং বিশ্বস্ত একটি টীম সারাদেশ ঘুরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থা বিশ্লেষন করেছেন। পাশাপাশি খোজ নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সহ অন্যান্য দলের প্রার্থীদের। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় তাঁর একজন এজেন্ট রয়েছে, যে প্রতিদিনকার বিএনপির কর্মকান্ড, প্রার্থীদের তৎপরতা সহ আওয়ামী লীগের অবস্থান লিখিতভাবে পাঠিয়ে দেন লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমানের কাছে। এর বাইরে দলীয় নেতাদের রিপোর্ট, দুটি পেশাদার জরীপ সংস্থার রিপোর্ট এবং বিএনপি পন্থী বুদ্ধিজীবিদের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে বিএনপির প্রার্থী চুড়ান্ত করছেন তারেক রহমান। বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে গাজীপুর এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির প্রার্থী নির্ধারন দেখে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও কঠোর পরিশ্রম করছেন আগামী নির্বাচনে তাঁর দলের প্রার্থী নির্ধারন এবং নির্বাচন কেন্দ্রীক কর্মকৌশল নির্ধারনে। দলের সিনয়র নেতৃবৃন্দও জানছেন না কিভাবে কি হচ্ছে! অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে কর্মকৌশল নির্ধারন এবং প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করে চলেছেন তিনি। তবে লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, ২০০৮ বা ২০১৪ সালে এ সমস্ত কাজে যারা তাঁর সঙ্গী ছিল এবার তারাও অন্ধকারে! জানেন না কি হচ্ছে বা হবে। সবাই চেয়ে থাকেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার মুখ পানে। 

খোজ নিয়ে জানা গেছে ২০১৫ সালের শেষের দিকে নিজের পছন্সই নতুন দু'টি টীম গড়ে তোলেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। একটি টীম বিএনপির সহ অন্য রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তীক্ষ্ন নজর রেখে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারনে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করেন দলীয় প্রধানকে। আরেকটি টিম কাজ করছে প্রার্থী বাছাইয়ে, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যন্ত নিয়মিত নজর রাখছে টীমটি। সরকারী তিনটি সংস্থা, সিআরআই, দুটি আন্তজার্তিক সংস্থা সহ মোট ৯ টি সংস্থা হতে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত একান্ত ব্যাক্তিগত টীম দিয়ে যাচাই বাছাই শেষে প্রার্থী তালিকার খসড়া চুড়ান্ত করেছেন তিনি। এখন নজর রাখছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের গতিবিধির উপর।

সূত্র সমূহ নিশ্চিত করেছে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয় দলেই প্রার্থী তালিকার প্রায় ৫০/৬০ ভাগ ই থাকবে নতুন মুখ। যেখানে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন কিন্তু পেশাজীবনে সমাজে প্রতিষ্ঠিত এবং স্বনামধন্য এমন ব্যক্তিরাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মনোনয়ন পাবেন। আবার দলীয় কোন্দল নিরসনে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ন নেতা কিন্তু দলীয় সকল গ্রুপের কাছে গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে এমন ব্যক্তির সংখ্যাও অনেক যারা মনোনয়ন পাবেন।

আগামী নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে উভয় দলই স্বচ্ছ, গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।