৩১ মে ২০২০,   ঢাকা, বাংলাদেশ  
Login          

আওয়ামী লীগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী বাড়ছে!



বর্তমান জাতীয় সংসদে ১৮ জন (১৭ জন সাধারন আসনে এবং একজন সংরক্ষিত মহিলা আসনে) ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংসদ সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন এমপি এলাকায় তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি। আবার কয়েকটি আসনে নতুন প্রার্থী রয়েছেন যারা তৃনমুলে ব্যাপক জনপ্রিয় অথবা ভোটের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার ট্রাম্প কার্ড। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে ২০/২১ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন। 

জানা গেছে ২/১ টি আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যদের পরিবর্তে অন্য কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা প্রার্থী হতে পারেন। আর দল সরকার গঠন করলে এবার অন্তত ২/৩ জন সংরক্ষিত মহিলা এমপি হবেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। যশোরের একটি আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংসদ সদস্য মনোনয়ন পচ্ছেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

ঠাকুরগাঁও ১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। এখানে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে এ্যাড. ইন্দ্রনাথ রায় এবং অরুনাংশ দত্ত টিটো বিবেচনায় রয়েছেন।

দিনাজপুর ১ আসনে মনোরঞ্জন শীল গোপাল, নওগাঁ ১ আসনে সাধন চন্দ্র মজুমদার, যশোর ৪ আসনে রনজিত কুমার রায়, মাগুরা ২ আসনে বীরেন শিকদার, রবগুনা ১ আসনে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভ, বরিশাল ৪ আসনে পংকজ নাথ, ময়মনসিংহ ১ আসনে জুয়েল আরেং, নেত্রকোন ১ আসনে ছবি বিশ্বাস, সুনামগঞ্জ ২ আসনে জয়া সেন গুপ্ত, মুন্সিগঞ্জ ১ আসনে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনে মৃনাল কান্তি দাস দের দলীয় মনোনয়ন মোটামুটিভাবে নিশ্চিত বলা যায়। 

পার্বত্য খাগড়াছড়ি এবং পার্বত্য রাংগামাটি আসনও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য অলিখিত বরাদ্ধ।

খুলানা ১ আসনটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রিজার্ভ আসন হিসেবে বিবেচিত। এখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস। এ আসন থেকে ৩ বার নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে বয়সের ভারে কিছুটা বিপর্যস্ত। এ আসনে ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন ননী গোপাল মন্ডল। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। এ আসনে নতুন প্রার্থী হিসেবে সাড়া জাগিয়েছেন তরুন শিল্পপতি শ্রীমন্ত অধিকারী রাহুল। পঞ্চানন এবং ননী গোপালের মধ্যকার ব্যাপক হোন্দল নিরসনে দলীয় হাইকমান্ড শ্রীমন্ত অধিকারী রাহুলের মতো প্রার্থীকে বেছে নিতে পারেন বলে জানা গেছে।

খুলনা ৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নারায়ন চন্দ্র চন্দ বর্তমান সরকারের মন্ত্রী পরিষদেরও সদস্য। এ আসনে তাঁকে ধাক্কা দিতে পারেন তরুন নেতা অজয় সরকার। 

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে যশোর ৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন স্বপন ভট্টাচার্য্য। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা তার উপর ব্যাপক অসন্তুষ্ট। তাঁদের জোর দাবী এ আসনে স্বপন বাবু বাদে অন্য কোন দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে। অনুসন্ধানে জানা গেছে স্বপন ভট্টাচার্য্য স্থানীয় সর্বসাধারনের কাছে ব্যাপক বিতর্কিত। 

এছাড়া ঝিনাইদাহ ২ আসনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস, বাগেরহাট ৪ আসনে এ্যাড. প্রবীর রঞ্জন হালদার (সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুধাংশ শেখর হালদারের ছোট ভাই),  নেত্রকোনা ৩ আসনে অসীম কুমার উকিল, কিশোরগঞ্জ ৫ আসনে অজয় কর খোকন, কুমিল্লা ৭ আসনে অধ্যাপক ড. প্রাণ গোপাল দত্ত, চাঁদপুর ৩ আসনে সুজিত রায় নন্দী দের মধ্যে থেকে কয়েকজন দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।